Saturday, April 6, 2013

সৎ ও মুখলিছ লোকদের সঙ্গ অবলম্বন

৮-সৎ ও মুখলিছ লোকদের সঙ্গ অবলম্বন :
মানুষ যার সাথে উঠা-বসা ও চলাফেরা করে তার দ্বারা প্রভাবিত হয়। যদি কেউ মুখলিছ লোকদের সঙ্গ অবলম্বন করে তবে তার মধ্যে ইখলাছের ধারনা প্রবল হবে। আর যদি কোন ব্যক্তি লোক দেখানো ভাবনাধারী বা লোকশুনানো ধারণার বাহকের সাথে চলাফেরা করে তবে তার দৃষ্টিভংগি তার সঙ্গীর মতই হবে। এটা সকলের কাছে বোধগম্য। যেমন হাদীসে এসেছে-
المرء على دين خليله، فلينظر أحدكم من يخالل .أخرجه أحمد :  8212
মানুষ তার সঙ্গী-সাথীর দৃষ্টিভংগি গ্রহণ করে। তাই তোমরা খেয়াল করে দেখবে কে কার সাথে চলাফেরা করে। (বর্ণনায় : আহমদ)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন :-
مثل الجليس الصالح والسوء كحامل المسك ونافخ الكير، فحامل المسك إما أن يحذيك، وإما أن تبتاع منه وإما أن تجد منه ريحا طيبا، ونافخ الكير إما أن يحرق ثيابك وإما أن تجد منه ريحا خبيثا.  أخرجه البخاري: 2234
সৎসঙ্গ অবলম্বনকারী ও অসৎসঙ্গ গ্রহণকারীদের দৃষ্টান্ত হল যথাক্রমে সুগন্ধি বিক্রেতা ও কামারের মত। সুগন্ধি বিক্রেতা হয়ত তোমাকে কিছু সুগন্ধি দেবে অথবা তুমি তার থেকে সুগন্ধি কিনবে। যদি কোনটিই না হয়, তবে কমপক্ষে তার থেকে সুঘ্রাণ এমনিতেই পাবে। আর কামারের ব্যাপারটা হল, হয়ত তার আগুনের ফুলকিতে তোমার কাপড় পুরে যাবে অথবা তার হাপরের দুর্গন্ধ তোমাকে পেয়ে বসবে। (বর্ণনায় : বুখারী)
তাই যিনি ইখলাছ অবলম্বন করতে চান তাকে অবশ্যই সৎ-সঙ্গ নির্বাচন করতে হবে।

৯- মুখলিছ ও সৎ-কর্মপরায়ণদের আদর্শ রূপে গ্রহণ করা :
ইসলামের প্রথম যুগে নবী ও রাসূল, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন ও ইমামগণ-যারা নিজেদের জীবনে ইখলাছের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন- তাদেরকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করলে ইখলাছ অবলম্বনে সহায়ক হবে। প্রতিটি কাজে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা উচিত। যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন :-
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآَخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا
الأحزاب: 21
তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখেরাতকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্বরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। (সূরা আহযাব : ২১)
আল্লাহ আরো বলেন :-
أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهِ  . الأنعام: 90
তাদেরকে আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করেছেন। সুতরাং তুমি তাদের পথের অনুসরণ কর।  (সূরা আল-আনআম : ৯০)
আল্লাহ আরো বলেন :-
قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ.  الممتحنة: 8

তোমাদের জন্য ইবরাহীম ও তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। (সূরা আল-মুমতাহিনা : ৯)
এমনিভাবে সৎকর্মপরায়ণদের অনুসরণ করার ব্যাপারে হাদীসেও নির্দেশ এসেছে :-
فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين عضوا عليها بالنواجذ. أخرجه ابن ماجة وصححه الألباني
তোমরা আমার সুন্নাহ ও খোলাফায়ে রাশেদার আদর্শ দৃঢ়ভাবে আকরে ধরবে। (বর্ণনায় : ইবনু মাজাহ)
এ জন্য রাসুল ও তার সাহাবাদের সীরাত বা জীবনী অধ্যয়ন করা প্রয়োজন। তাদের সীরাত অধ্যয়ন ব্যতীত তাদের আদর্শ কিভাবে জানা যাবে?
ইমাম আবু হানীফা রহ. বলেন : ফিকাহর কোন মাছআলা গবেষণার চেয়ে পূর্বসুরী আলেম-উলামাদের জীবনী অধ্যয়ন আমার কাছে প্রিয়। কারণ তাদের জীবনীতে পাওয়া যায় উম্মাহর সত্যিকার আদব-আখলাক ও আচার আচারণ। (জামে আল-বয়ান ওয়া ফাযলিহি : ইবনু আবদিল বির)
তাদের সীরাত বা জীবনী পাঠ করে মানুষ ইখলাছ অবলম্বনে উদ্বুদ্ধ হবে অবশ্যই।

0 comments:

Post a Comment

 
Copyright © . A-Tasauf is the holy place of Mind . - Posts · Comments
Theme Template by BTDesigner · Powered by Blogger