১২- সৎকাজের সামর্থ, ভালবাসা ও বরকত লাভ :
বান্দা যখন তার সকল কাজ আল্লাহকে সন্তুষ্ট
করার জন্য করবে এবং সঠিক পদ্ধতিতে করবে তখন সে ভাল কাজের তাওফীক, মানুষের ভালবাসা ও আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকত
লাভ করবে।
মাকহূল রহ. মন্তব্য করেন, কোন যদি বান্দা একাধারে চল্লিশটি দিবস ইখলাছের
সাথে যাপন করে, তবে সন্দেহ নেই, তার অন্তর থেকে বিচ্ছুরিত হবে হিকমত ও প্রজ্ঞার প্রস্রবন, জ্যোতি প্রকাশ পাবে তার কথা ও ভাষায়। (মাদারিজুস সালিকীন : ইবনুল জাওযী)
হামদূন কিসারকে যখন বলা হল, মহান পূর্বসুরীদের কথা ও বক্তব্য কি করে আমাদের
কথা ও বক্তব্যের তুলনায় অধিক উপকারী ও কল্যাণকর রূপে দেখা দেয়? উত্তরে তিনি বললেন, কারণ, তারা কথা বলেন ইসলামের সম্মান, নফসের মুক্তি ও আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের
উদ্দেশ্যে। আর আমাদের বক্তব্য হয় নফসের সম্মান, পার্থিবের অনুসন্ধান ও মানুষের সন'ষ্টি লাভের জন্য। (সফওয়াতুস সাফওয়াহ : ইবনুল জাওযী)
ইবনুল কায়্যিম রহ. মন্তব্য করেন, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য কু-প্রবৃত্তির
লালসা ত্যাগ করলে, আল্লাহর জন্য সকল কাজ নিবেদন করলে যে প্রশান্তি, মনোবল, বরকত অর্জিত হয় তা ঐ সকল লোক কখনো অর্জন করতে
পারে না, যারা আল্লাহর জন্য না করে অন্য উদ্দেশ্যে করে। সে যত বড় আলেম, পীর, দরবেশ হোক, কখনো মুখলিছ ব্যক্তির ন্যায় সাহস, মনোবল, আধ্যাত্মিক শান্তি অর্জন করতে পারবে না। (আল-ফাওয়ায়েদ : ইবনুল কায়্যিম)
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. সুন্দর একটি ঘটনা উল্লেখ
করেছেন যে, প্রচলিত আছে, এক ব্যক্তি শুনল, যদি কেউ চল্লিশ দিন ভোরে আল্লাহর জন্য ইখলাছ অবলম্বন করে তাহলে তার অন্তর ও মুখের
কথা হিকমত (প্রজ্ঞা) পূর্ণ হবে। শোনার পর সে চল্লিশ
দিন পর্যন্ত ইখলাছের চর্চা (তার ধারণা অনুসারে) করল কিন্তু সে প্রজ্ঞা বা হিকমাত অর্জন করতে পারলো না। এরপর সে একজন বড় আলেমের কাছে গিয়ে অনুযোগ করলো যে, আমি যে হিকমত অর্জনের উদ্দেশ্যে আল্লাহর জন্য
ইখলাছের চর্চা করেছি তার কিছুই পেলাম না। ইখলাছ অবলম্বন করেও কেন আমি তার ফল লাভ করতে পারলাম না। আলেম উত্তরে বললেন, তুমি তো ইখলাছ চর্চা
করেছো হিকমাত (প্রজ্ঞা) অর্জনের জন্য, আল্লাহর জন্য তো নয়! তোমার ইখলাছই তো হয়নি। কাজেই, তার মাধ্যমে হিকমাত অর্জন করবে কিভাবে? তুমি যদি ইখলাছ চর্চা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার
জন্য করতে তাহলে হিকমাত এমনিতেই অর্জিত হত। কিন্তু তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্য না করে করেছো হিকমাত
অর্জনের উদ্দেশ্যে। তাই ইখলাছও আদায় হয়নি আর তার প্রতিফল হিকমাতও
অর্জন করতে পারনি। (আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা : ইবনে তাইমিয়া)



0 comments:
Post a Comment