৬-ইবাদত-বন্দেগী বেশী করা :
মানুষের কাছে শয়তানের প্রত্যাশা এই যে, সর্বতোভাবে সে আল্লাহর আনুগত্য পরিত্যাগ করুক, কিংবা নিয়্যত ও ধরণের দিক দিয়ে ইবাদত পালন করুক অযথার্থ প্রক্রিয়ায়। কিন্তু শয়তান যখন জানতে পারে যে, বান্দা তাকে এড়িয়ে যাচ্ছে, বর্জন করছে তার আনুগত্য; এবং যখনি সে বান্দাকে কুমন্ত্রণা দিচ্ছে, বেড়ে যাচ্ছে ইবাদত-বন্দেগী ও ইখলাছ, তখন সে ক্ষান্ত হয়, কারণ বান্দার এ অটলতাই তার জন্য প্রভূত কল্যাণের কারণ হবে সন্দেহ নেই। হাসান বসরী রা. বলেন: শয়তান তোমার দিকে দৃষ্টি দিয়ে যখন দেখে যে তুমি সর্বদা আল্লাহর আনুগত্যে অটল, তখন সে তোমাকে প্রত্যাখ্যান করে চলে যায়। আর যখন দেখে তুমি কখনো আনুগত্য করছো, আবার কখনো ছেড়ে দিচ্ছ তখন সে তোমার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠে। (আয-যুহুদ : ইবনে মুবারক)
৭-আত্মতৃপ্তি পরিহার করা :
আমি খুব ভাল মানুষ, বা আমি অনেক লোকের চেয়ে সৎকর্ম বেশী করি- এ ধরণের অনুভূতি লালন করার নাম হল আত্মতৃপ্তি। এটা এক খারাপ আচরণ। শয়তান এ পথ দিয়ে মানুষকে প্রতারিত করে থাকে, ঢুকে পড়ে তার অন্তকরণে সন্তর্পণে।
যে আত্মতৃপ্তিতে ভোগে, সে যেন আল্লাহর প্রতি অনুগ্রহ করেছে বলে ধারনা পোষণ করে। যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আত্মতৃপ্তিতে পতিত হওয়া কতিপয় মানুষের কথা বলেছেন এভাবে :-
يَمُنُّونَ عَلَيْكَ أَنْ أَسْلَمُوا قُلْ لَا تَمُنُّوا عَلَيَّ إِسْلَامَكُمْ بَلِ اللَّهُ يَمُنُّ عَلَيْكُمْ أَنْ هَدَاكُمْ لِلْإِيمَانِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ . الحجرات : 17
তারা ইসলাম গ্রহণ করে তোমাকে ধন্য করেছে বলে মনে করে। বল, তোমাদের ইসলাম গ্রহণ আমাকে ধন্য করেছে বলে মনে করো না, বরং আল্লাহ ঈমানের দিকে পরিচালিত করে তোমাদেরকে ধন্য করেছেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (সূরা হুজুরাত : ১৭)
ইমাম নববী রহ. বলেন : ইখলাছ অবলম্বনে যতগুলো বাধা আছে তার মধ্যে আত্মতৃপ্তি হল অন্যতম। আত্মতৃপ্তি যাকে পেয়ে বসবে তার আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে। এমনিভাবে যে অহংকার করবে তার আমল নিষ্ফলতায় পর্যবসিত হবে। (আল-আরবাঈন আন-নববীয়্যাহ)
ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন : মানুষ যখন কোন কাজ শুরু করবে তখন আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার নিয়্যত করবে, আল্লাহ তাকে অনুগ্রহ করে এ কাজ করার সামর্থ দিয়েছেন এটা মনে রাখবে, তাঁরই দেয়া শক্তি ও সামর্থ দ্বারা এ কাজ করা হচ্ছে, তিনিই মুখ, অন্তর, চোখ, কানকে এ কাজে ব্যবহারের উপযোগী করেছেন এ অনুভূতি পোষণ করবে। এ রকম নিয়্যত ও অনুভূতি যদি কাজ করার শুরুতে না থাকে তাহলে আত্মতৃপ্তিতে পতিত হওয়ার দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যাবে। ফলে তার আমলট বৃথা যাবে। (আল-ফাওয়ায়েদ : ইবনুল কায়্যিম)
সৃষ্টিজীব আমার কাজ সম্পর্কে জানুক, তারা আমার প্রশংসা করুক ও আমাকে তিরস্কার না করুক-এমন নিয়্যতে কাজ করলে তা এক ধরণের শিরক বলে আল্লাহর কাছে গণ্য হবে। (মজমু আল-ফাতাওয়া : ইবনে তাইমিয়া)
মানুষের সমালোচনা ও প্রশংসার প্রতি লক্ষ্য রেখে মুখলিছ বান্দা ইবাদত-বন্দেগী করতে পারে না। কেন সে মানুষের ভাল-মন্দ কথার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবে। সে তো জানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :-
واعلم أن الأمة لوجتمعت على أن ينفعوك بشيء لم ينفعوك بشيء إلا قد كتبه الله لك، ولو اجتمعوا على أن يضروك بشيء لم يضروك بشيء إلا قد كتبه الله عليك، رفعت الأقلام وجفت الصحف .أخرجه الترمذي 2516 وصححه الألباني
জেনে রাখ! পুরো জাতি যদি তোমাকে উপকার করতে একত্র হয় তবুও তোমার কোন উপকার করতে পারবে না, তবে আল্লাহ তোমার জন্য যা লিখে রেখেছেন (তা অবশ্যই ঘটবে)। এমনিভাবে, পুরো জাতি যদি তোমার ক্ষতি করার জন্য একত্র হয় তবুও তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। তবে আল্লাহ যা তোমার বিপক্ষে লিখে রেখেছেন (তা নিশ্চয় ঘটবে)। কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে আর খাতা শুকিয়ে গেছে। (বর্ণনায় : তিরমিজী)
ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেছেন : আগুন ও পানি যেমন একত্র হতে পারে না। সাপ এবং গুই সাপ যেমন এক গর্তে থাকতে পারে না তেমনি একই হৃদয়ে ইখলাছ ও মানুষকে সন্তুষ্ট করার ভাবনা একত্র হতে পারে না। (আল-ফাওয়ায়েদ : ইবনুল কায়্যিম)
মানুষের নজর কাড়ার প্রতি গুরুত্ব দিলে, তাদের সন'ষ্টি অর্জনের ভাবনা অন্তরে স্থান দিলে তা কাউকে উপকার করবে না ও ক্ষতি থেকেও ফিরাবে না। বরং এ ধরণের ভাবনা শুধু মানুষের ক্রোধ ও সমালোচনার যোগান দেয়।
মানুষের কাছে শয়তানের প্রত্যাশা এই যে, সর্বতোভাবে সে আল্লাহর আনুগত্য পরিত্যাগ করুক, কিংবা নিয়্যত ও ধরণের দিক দিয়ে ইবাদত পালন করুক অযথার্থ প্রক্রিয়ায়। কিন্তু শয়তান যখন জানতে পারে যে, বান্দা তাকে এড়িয়ে যাচ্ছে, বর্জন করছে তার আনুগত্য; এবং যখনি সে বান্দাকে কুমন্ত্রণা দিচ্ছে, বেড়ে যাচ্ছে ইবাদত-বন্দেগী ও ইখলাছ, তখন সে ক্ষান্ত হয়, কারণ বান্দার এ অটলতাই তার জন্য প্রভূত কল্যাণের কারণ হবে সন্দেহ নেই। হাসান বসরী রা. বলেন: শয়তান তোমার দিকে দৃষ্টি দিয়ে যখন দেখে যে তুমি সর্বদা আল্লাহর আনুগত্যে অটল, তখন সে তোমাকে প্রত্যাখ্যান করে চলে যায়। আর যখন দেখে তুমি কখনো আনুগত্য করছো, আবার কখনো ছেড়ে দিচ্ছ তখন সে তোমার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠে। (আয-যুহুদ : ইবনে মুবারক)
৭-আত্মতৃপ্তি পরিহার করা :
আমি খুব ভাল মানুষ, বা আমি অনেক লোকের চেয়ে সৎকর্ম বেশী করি- এ ধরণের অনুভূতি লালন করার নাম হল আত্মতৃপ্তি। এটা এক খারাপ আচরণ। শয়তান এ পথ দিয়ে মানুষকে প্রতারিত করে থাকে, ঢুকে পড়ে তার অন্তকরণে সন্তর্পণে।
যে আত্মতৃপ্তিতে ভোগে, সে যেন আল্লাহর প্রতি অনুগ্রহ করেছে বলে ধারনা পোষণ করে। যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আত্মতৃপ্তিতে পতিত হওয়া কতিপয় মানুষের কথা বলেছেন এভাবে :-
يَمُنُّونَ عَلَيْكَ أَنْ أَسْلَمُوا قُلْ لَا تَمُنُّوا عَلَيَّ إِسْلَامَكُمْ بَلِ اللَّهُ يَمُنُّ عَلَيْكُمْ أَنْ هَدَاكُمْ لِلْإِيمَانِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ . الحجرات : 17
তারা ইসলাম গ্রহণ করে তোমাকে ধন্য করেছে বলে মনে করে। বল, তোমাদের ইসলাম গ্রহণ আমাকে ধন্য করেছে বলে মনে করো না, বরং আল্লাহ ঈমানের দিকে পরিচালিত করে তোমাদেরকে ধন্য করেছেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (সূরা হুজুরাত : ১৭)
ইমাম নববী রহ. বলেন : ইখলাছ অবলম্বনে যতগুলো বাধা আছে তার মধ্যে আত্মতৃপ্তি হল অন্যতম। আত্মতৃপ্তি যাকে পেয়ে বসবে তার আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে। এমনিভাবে যে অহংকার করবে তার আমল নিষ্ফলতায় পর্যবসিত হবে। (আল-আরবাঈন আন-নববীয়্যাহ)
ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন : মানুষ যখন কোন কাজ শুরু করবে তখন আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার নিয়্যত করবে, আল্লাহ তাকে অনুগ্রহ করে এ কাজ করার সামর্থ দিয়েছেন এটা মনে রাখবে, তাঁরই দেয়া শক্তি ও সামর্থ দ্বারা এ কাজ করা হচ্ছে, তিনিই মুখ, অন্তর, চোখ, কানকে এ কাজে ব্যবহারের উপযোগী করেছেন এ অনুভূতি পোষণ করবে। এ রকম নিয়্যত ও অনুভূতি যদি কাজ করার শুরুতে না থাকে তাহলে আত্মতৃপ্তিতে পতিত হওয়ার দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যাবে। ফলে তার আমলট বৃথা যাবে। (আল-ফাওয়ায়েদ : ইবনুল কায়্যিম)
সৃষ্টিজীব আমার কাজ সম্পর্কে জানুক, তারা আমার প্রশংসা করুক ও আমাকে তিরস্কার না করুক-এমন নিয়্যতে কাজ করলে তা এক ধরণের শিরক বলে আল্লাহর কাছে গণ্য হবে। (মজমু আল-ফাতাওয়া : ইবনে তাইমিয়া)
মানুষের সমালোচনা ও প্রশংসার প্রতি লক্ষ্য রেখে মুখলিছ বান্দা ইবাদত-বন্দেগী করতে পারে না। কেন সে মানুষের ভাল-মন্দ কথার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবে। সে তো জানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :-
واعلم أن الأمة لوجتمعت على أن ينفعوك بشيء لم ينفعوك بشيء إلا قد كتبه الله لك، ولو اجتمعوا على أن يضروك بشيء لم يضروك بشيء إلا قد كتبه الله عليك، رفعت الأقلام وجفت الصحف .أخرجه الترمذي 2516 وصححه الألباني
জেনে রাখ! পুরো জাতি যদি তোমাকে উপকার করতে একত্র হয় তবুও তোমার কোন উপকার করতে পারবে না, তবে আল্লাহ তোমার জন্য যা লিখে রেখেছেন (তা অবশ্যই ঘটবে)। এমনিভাবে, পুরো জাতি যদি তোমার ক্ষতি করার জন্য একত্র হয় তবুও তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। তবে আল্লাহ যা তোমার বিপক্ষে লিখে রেখেছেন (তা নিশ্চয় ঘটবে)। কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে আর খাতা শুকিয়ে গেছে। (বর্ণনায় : তিরমিজী)
ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেছেন : আগুন ও পানি যেমন একত্র হতে পারে না। সাপ এবং গুই সাপ যেমন এক গর্তে থাকতে পারে না তেমনি একই হৃদয়ে ইখলাছ ও মানুষকে সন্তুষ্ট করার ভাবনা একত্র হতে পারে না। (আল-ফাওয়ায়েদ : ইবনুল কায়্যিম)
মানুষের নজর কাড়ার প্রতি গুরুত্ব দিলে, তাদের সন'ষ্টি অর্জনের ভাবনা অন্তরে স্থান দিলে তা কাউকে উপকার করবে না ও ক্ষতি থেকেও ফিরাবে না। বরং এ ধরণের ভাবনা শুধু মানুষের ক্রোধ ও সমালোচনার যোগান দেয়।



0 comments:
Post a Comment