চতুর্থ : সৎকাজে মানুষের প্রশংসা :
মুখলিছ ব্যক্তি সর্বদাই নিজের প্রসার ও প্রচারকে
এবং নিজ কাজের সুখ্যাতিকে অপছন্দ করে।
আলী রা. বলেছেন : তুমি প্রসিদ্ধি লাভ করবে
এ জন্য কোন কাজ শুরু করবে না। মানুষে তোমাকে স্মরণ
করবে এ উদ্দেশ্যে নিজের ব্যক্তিত্বকে উন্নত করবে না। শিখবে ও গোপন রাখবে। নীরবতা অবলম্বন করবে, তাহলে নিরাপদ থাকবে। সৎ-কর্মপরায়ণ লোকদের দেখলে খুশী হবে এবং অসৎ লোকদের দেখলে ক্রোধান্বিত হবে। (তাফসীর ইবনু কাসীর)
তবে হ্যাঁ, মুখলিছ ব্যক্তি যে প্রসিদ্ধি বা মানুষের প্রশংসা
পায়, তা অনিচ্ছায় লাভ হয়। সে তা লাভ করার নিয়্যত করেনি। নিজের অনিচ্ছায় কোন সুখ্যাতি বা মানুষের প্রশংসা অর্জন হলে ইখলাছের কোন ক্ষতি হয়
না।
হাদীসে এসেছে-
عن ابي ذر رضى الله عنه قال: قيل لرسول
الله صلى الله عليه وسلم : أرأيت الرجل يعمل العمل من الخير ويحمده الناس عليه،
قال: تلك عاجل بشرى المؤمن .رواه مسلم :
2642
আবু জর রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হল, ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কি যে কল্যাণকর
কাজ করল এবং মানুষ এর জন্য তার প্রশংসা করল? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বললেন: এটা মুমিন ব্যক্তির জন্য অগ্রিম সুসংবাদ। (বর্ণনায় : মুসলিম)
পঞ্চম : রিয়ার ভয়ে নেক আমল ত্যাগ করা :
কোন ব্যক্তি একটি ভাল কাজ করতে মনস্থির করল। ইতিমধ্যে সে খেয়াল করে দেখল কাজটি করলে মানুষ দেখবে ও প্রশংসা
করবে। তাই সে রিয়া বা লোক দেখানো ভাবনায় পড়ে যাবে
এ আশংকায় কাজটি ত্যাগ করল। এটা শয়তানের আরকেটি
কুমন্ত্রণা।
ইবনু হাযম রহ. বলেন : রিয়া ত্যাগ করার ব্যাপারেও
শয়তানের চক্রান্ত আছে। তাহল, মানুষের মনে এ ধারণা সৃষ্টি করে দেয়া যে এ
ভাল কাজটি করলে লোকেরা দেখবে, এতে তুমি রিয়ার দোষে দুষ্ট হবে। এ ধারণার পর মানুষ ভাল কাজ সম্পাদন থেকে বিরত থাকল। (আল-আখলাক ও আস-সিয়ার : ইবনু হাযম)
শয়তান যদি এমনি একটা পথ খুলে নেয় তাহলে সকল
ভাল কাজে এমনি করে বাধা দিতে থাকবে। (আল-ইখলাছ : আল-আশকর)
ইমাম ইবনু তাইমিয়া রহ. বলেন : যদি কারো নির্দিষ্ট
কোন নফল আমল থাকে যেমন চাশতের সালাত, তাহাজ্জুদ-ইত্যাদি তাহলে সে এগুলো আদায় করবে, যেখানেই সে থাকুক না কেন। মানুষ দেখবে, সে রিয়ার মধ্যে পড়ে যাবে-এ ভয়ে ত্যাগ করবে
না। কাজেই যে সকল নেক আমল শরীয়ত অনুমোদিত তা কখনো
রিয়া হবে এ ভয়ে করে ত্যাগ করা যাবে না। (মাজমু আল-ফাতাওয়া : ইবনে তাইমিয়া)
ফুজাইল রহ. বলেন: মানুষে দেখবে এ ভয়ে ভাল
কাজ ত্যাগ করা একটি রিয়া, কেননা মানুষের জন্যই সে কাজটা ত্যাগ করল। আর মানুষ দেখবে এ উদ্দেশ্যে ভাল কাজ করা হল শিরক। আর ইখলাছ হল এ দুটো থেকেই বেঁচে থাকা। (সিয়ার আলাম আন-নুবালা : আয-যাহাবী)
ইখলাছের পথে যা বাধা নয়
সৎ লোকদের সাথে থাকার সুযোগে নেক আমল করা
:
মানুষ যখন কিছু সংখ্যক মুত্তাকী পরহেযগার
লোকদের সাথে একত্র হয়ে বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগী করে তখন কারো কারো মনে এ ধরণের ভাবনা
জন্ম নেয় যে, এ কাজটা মনে হয় রিয়ার মধ্যে পড়ে গেল। যদি কাজটা একান্তে সম্পাদন করা হত তা হলে কি ভাল হত না? আসলে ব্যাপারটা এ রকম নয়। জামাআতবদ্ধ থাকলে অনেক সময় অন্যের উৎসাহে বা অন্যের দ্বারা প্রভাবিত
হয়ে অনেক নেক আমল করা যায়, যা একা একা করার সুযোগ হয় না, বা করতে গেলে অলসতায় পেয়ে বসে। তাই বলে এটা ইখলাছের বিরোধী হওয়ার কোন কারণ নেই।
এক কাজে একাধিক নিয়্যত করা :
একটি নেক আমল করার সময় একাধিক সওয়াবের নিয়্যত
করা যেতে পারে। এটাকে বলে তাশরীকুন্নিয়্যাত বা নিয়তের ক্ষেত্রে
অংশীদারিত্ব। একাধিক নিয়্যত দু ধরনের হয়ে থাকে :
এক. একটি নেক আমল করার মাধ্যমে দুটো সওয়াব
অর্জনের নিয়্যত করা যেতে পারে। এতে ইখলাছের পরিপন্থী
কিছু নেই। যেমন কেউ জুমুআর সালাতের পূর্বে গোসল করল
দুটো নিয়্যতে;
বড় নাপাকী থেকে পবিত্রতা
অর্জন ও জুমুআর দিনের গোসলের সওয়াব লাভ। এ দুটো নিয়্যত করা সঠিক হয়েছে। এমনিভাবে কেউ মসজিদে
প্রবেশ করে দু রাকাআত সালাত আদায় করল কিন্তু সওয়াবের নিয়্যত করল দুটোর; তাহিয়্যাতুল মসজিদের সালাত ও ফজরের সুন্নাতের
সালাত। অথচ সালাত মাত্র একটি। এতে সে দু সালাতের সওয়াব অর্জনের নিয়্যত করলে কোন অসুবিধা নেই। এমনিভাবে আত্মীয়-স্বজনকে দান করে আত্মীয়তার সম্পর্ক মজবুত করা
ও ছদকার সওয়াব লাভ করার নিয়্যত করা যায়। সালাতের পূর্বে মসজিদে অবস্থান করে সালাতের অপেক্ষার সওয়াব ও এতেকাফের সওয়াবের
নিয়্যত করতে অসুবাধা নেই।
দুই . একটি নেক আমল করে একটি সওয়াব ও অন্য
একটি আমলের নিয়্যত করা। এতেও কোন সমস্যা নেই। যেমন কেউ অজু করল সালাত আদায়ের নিয়্যতে। কিন' সাথে সাথে সে অজুর
মাধ্যমে শরীর ঠান্ডা হবে বা অলসতা কেটে যাবে এ নিয়্যত করল। এতে কোন সমস্যা নেই। এমনিভাবে কেউ হজ্ব করতে গেল। তার নিয়্যত সে হজ্বের সওয়াব অর্জন করবে। সাথে নিয়্যত করল হজ্বে যেয়ে সে কিছু ব্যবসা-বানিজ্য করবে। এতে নাজায়েযের কিছু নেই। মোটকথা, একটি নেক আমল করে একাধিক নেক আমলের সওয়াব অর্জন করার নিয়্যত করা ইখলাছের পরিপন্থী
নয়।



0 comments:
Post a Comment