Saturday, April 6, 2013

কারামত



কারামত
কারামত হল, অসাধারণ কোন ঘটনা যা আল্লাহ্ তাঁর নেক বান্দাগণের মাধ্যমে তাদের জীবিতাবস্থায় অথবা তাদের মৃতু্র পর তাদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য ঘটিয়ে থাকেন, এর মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাকে কোন অনিষ্তা থেকে হেফাযত করেন, অথবা তাঁর বান্দার কোন কল্যাণ সাধন করেন, অথবা তিনি এর মাধ্যমে হকের সাহায্য করে থাকেন। (সৌদী আরবের ফতোয়া বোর্ডের লাজনা দায়েমার ফাতওয়া ১/৩৮৮)
কারামতের সংজ্ঞায় সুলাইমান বিন আবদুল্লাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ্) বলেন, কারামত এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ্  তাঁর মুমিন এবং মুত্তাকী বান্দার মাধ্যমে প্রকাশ করেন, হয় তার দো‘আর কারণে অথবা তার কোন সৎ আমলের কারণে, আর এতে অলীর কোন হাত বা শক্তি নেই। (তাইসিরুল আযীযিল হামীদ, ৪১৩)
বনী ইসরাঈলের জনৈক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির নিকট এক হাযার স্বর্ণমুদ্রা কর্য চাইলে কর্যদাতা বলল, কয়েকজন লোক নিয়ে আস, আমি তাদেরকে সাক্ষী রাখব। গ্রহীতা বলল, ‘আল্লাহই সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট’। কর্যদাতা পুনরায় বলল, তবে একজন যামিনদার উপস্থিত কর! সে বলল, ‘আল্লাহই যামিনদার হিসাবে যথেষ্ট’। তখন কর্যদাতা বলল, তুমি ঠিকই বলেছ। তারপর সে নির্ধারিত সময়ে পরিশোধের শর্তে তাকে এক হাযার স্বর্ণমুদ্রা ধার দিল। অতঃপর সে (গ্রহীতা) সমুদ্রযাত্রা করল এবং তার (ব্যবসায়িক) প্রয়োজন পূরণ করল। পরিশোধের সময় ঘনিয়ে আসলে সে যানবাহন খুঁজতে লাগল, যাতে নির্ধারিত সময়ে কর্যদাতার নিকট এসে পৌঁছতে পারে। কিন্তু সে কোন যানবাহন পেল না। তখন সে এক টুকরো কাঠ নিয়ে তা ছিদ্র করল এবং কর্যদাতার নামে একখানা চিঠি ও এক হাযার দীনার ওর মধ্যে পুরে ছিদ্রটি বন্ধ করে দিল। তারপর ঐ কাষ্ঠখণ্ডটা সমুদ্র তীরে নিয়ে গিয়ে বলল, ‘হে আল্লাহ! তুমি তো জান, আমি অমুকের নিকট এক হাযার স্বর্ণমুদ্রা কর্য চাইলে সে আমার কাছ থেকে যামিনদার চেয়েছিল। আমি বলেছিলাম, আল্লাহই যামিনদার হিসাবে যথেষ্ট। এতে সে রাযী হয়ে যায় (এবং আমাকে ধার দেয়)। তারপর সে আমার কাছে সাক্ষী চেয়েছিল, আমি বলেছিলাম, সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট। তাতে সে রাযী হয়ে যায়। আমি তার প্রাপ্য তার নিকট পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যানবাহনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করলাম, কিন্তু পেলাম না। আমি ঐ এক হাযার স্বর্ণমুদ্রা তোমার নিকট আমানত রাখছি। এই বলে সে কাষ্ঠখণ্ডটা সমুদ্রবক্ষে নিক্ষেপ করল। তৎক্ষণাৎ তা সমুদ্রের মধ্যে ভেসে চলে গেল। অতঃপর লোকটি ফিরে গেল এবং নিজের শহরে যাওয়ার জন্য যানবাহন খুঁজতে লাগল।
ওদিকে কর্যদাতা (নির্ধারিত দিনে) এ আশায় সমুদ্রতীরে গেল যে, হয়তবা ঋণগ্রহীতা তার পাওনা টাকা নিয়ে কোন নৌযানে চড়ে এসে পড়েছে। ঘটনাক্রমে ঐ কাষ্ঠখণ্ডটা তার নযরে পড়ল, যার ভিতরে স্বর্ণমুদ্রা ছিল। সে তা পরিবারের জ্বালানির জন্য বাড়ী নিয়ে গেল। যখন কাঠের টুকরাটা চিরল, তখন ঐ স্বর্ণমুদ্রা ও চিঠিটা পেয়ে গেল। কিছুদিন পর ঋণগ্রহীতা এক হাযার স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে (পাওনাদারের নিকট) এসে হাযির হ’ল। সে বলল, আল্লাহ্‌র কসম! আমি তোমার (প্রাপ্য) মাল যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যানবাহনের খোঁজে সর্বদা চেষ্টিত ছিলাম। কিন্তু যে জাহাযটিতে করে আমি এখন এসেছি এর আগে আর কোন জাহাযই পাইনি (তাই সময়মত আসতে পারলাম না)। কর্যদাতা বললেন, তুমি কি আমার নিকট কিছু পাঠিয়েছিলে? ঋণগ্রহীতা বলল, আমি তো তোমাকে বললামই যে, এর আগে আর কোন জাহাযই পাইনি। অতঃপর ঋণদাতা বলল, আল্লাহ পাক আমার নিকট তা পৌঁছিয়েছেন, যা তুমি পত্রসহ কাষ্ঠখণ্ডে পাঠিয়েছিলে। কাজেই এক হাযার স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে আনন্দচিত্তে ফিরে যাও।
ছহীহ বুখারী হা/২২৯১, ‘যামিন হওয়া’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১


অলীগণের মাধ্যমে কারামত 

নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদেরকে রক্ষা করেন তাদের দুশমন থেকে, তিনি কোন বিশ্বাসঘাতক, অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না। (সূরা হাজ্ব-৩৮)
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, হাদীস কুদসী আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন,
«مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالحَرْب»
যে ব্যক্তি আমার অলীর (প্রিয় বান্দার) সাথে শত্রুতা করে আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম। (বখারী, ৬৫০২)
হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া (রহঃ) এর সঙ্গে সুলতান গিয়াসুদ্দিন বলবন শত্রুতা ভাব পোষণ করতেন । কারণ হযরতের জনপ্রিয়তার দরুণ তার এই ধারণা জন্মেছিলো যে তিনি তার বাদশাহী দখল করে নিবেন । অতঃপর একদিন সুলতান অসুস্হ হয়ে পড়লেন । পেশাব বন্ধ হয়ে গেল । শাহী দরবারের জ্ঞানী-গুণী সকলে মিলে যত রকম তদবীর এবং চিকিৎসা ছিলো সব করলেন । কিন্তু পেশাব আসলো না । প্রাণ বাহির হওয়ার উপক্রম হলো । সুলতানের মা দ্রুত হযরত নিযামুদ্দিন আউলিয়ার খেদমতে ছুটে গেলেন । ভক্তি ও শ্রদ্ধায় বিগলিত হয়ে ক্ষমা চাইলেন এবং নিজের পুত্রের জন্যে দোয়ার আবেদন করলেন । 

হযরত বললেন, " আমি তখন-ই শুধু তার জন্য দোয়া করব যখন সে তার সমস্ত বাদশাহী আমার নামে লিখে দিবে এবং তার উপর দরবারের সমস্ত পরিষদের দস্তখত থাকবে । "

সুলতান অসুস্হতার দরুণ বড় অসহায় হয়ে পড়েছিলেন এবং তার পেট ফুলে ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলো । অতঃপর সুলতানের মা বাদশাহী লিখে দেওয়া কাগজ-পত্র নিয়ে হযরতের খেদমতে পেশ করলেন । হযরত নিযামুদ্দিন আওলিয়া (রহঃ) সেটা টুকরা টুকরা করে একটি পাত্রে রেখে বললেন, "এই পাত্রে তাকে পেশাব করতে বল,পেশাব এসে যাবে ।"

সুলতানের মা তাই করলেন । পেশাব এসে গেল । সুলতান নিস্কৃতি পেলেন । 

তিনি এটাই প্রমাণ করলেন যে উনার দৃষ্টিতে সুলতান গিয়াসুদ্দিন বলবনের বাদশাহীর মূল্য পেশাবের চেয়ে অধিক মূল্য নয় ।

উনার এই কারামতের প্রভাবে সেসময় অসংখ্য অমুসলিম ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলো ।

সূত্রঃ মুসলমানের হাসি । মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহঃ)

যে ভাবে নবীদের হতে মুজিযা প্রকাশ পেয়েছে, তেমনিভাবে ওলী বুযুর্গদের হাতে কারামত প্রকাশ পায়।৭৫ পবিত্র কুরআন ও হাদীসে এর যথেষ্ট প্রমাণাদি বিদ্যমান রয়েছে।৭৬ সাহাবায়ে কিরাম, তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন এবং বুযুর্গানে দ্বীনের ঘটনাবলী ও বক্তব্যের দ্বারাও এর সত্যতা প্রমাণিত হয়।৭৭ ওলামা মাশায়েখ ও লিখকগণ এ বিষয়ের উপর ভিন্নভাবে যথেষ্ট বই পুস্তকও রচনা করেছেন।৭৮ অনেকেই কারামতের বাস্তবতাকে অস্বীকার করেছেন।৭৯ কিন্তু যুক্তিসঙ্গত কথা হলো, কারামত অস্বীকার করার উপায় নেই।৮০
হযরত রেফায়ী কবীর রহ. যুগশ্রেষ্ঠ ওলী ছিলেন। আধ্যাত্মিক জগতের সম্রাট ছিলেন, তার হাতেও অসংখ্য কারামাত প্রকাশ পেয়েছে। বিভিন্ন বই পুস্তকে ঐ সমস্ত কারামাতের বর্ণনা পাওয়া যায়।৮১ নমুনা স্বরূপ নিম্নে কয়েকটি উদ্ধৃত করা হলোÑ
বধিরের শ্রবণ শক্তি লাভ:
আল্লামা মাহমূদ সামেরায়ী বলেন, হযরত রেফায়ী কবীরের হর. দরস ও ওয়াজ নসীহতের মজলিসে শত শত বধির লোকেরা জমায়েত হতো, তারা তাঁর সমস্ত বয়ান স্পষ্টভাবে শুনতে পেতো।৮২
অদৃশ্য কালির কারামত
বিভিন্ন সময় লোকজন হযরত রেফায়ী রহ. এর নিকট বালা মুসীবত থেকে মুক্তির আশায় তাবীজ গ্রহণ করতে আসতো। তিনি কলম কালি ছাড়াই কিছু লিখে দিতেন। অনেক সময় খুলে দেখা গেছেÑ সেখানে কলম-কালির লেখা বিদ্যমান রয়েছে।৮৩
পশু বশীকরণ কারামত
ইবনে বতুতা বলেন, আমি আমার বিশ্ব ভ্রমণকালে হযরত রেফায়ী কবীরের রহ. মাযার যিয়ারতের উদ্দেশ্যে খানকাহে উপস্থিত হলাম। সেখানে তাদেরকে দেখতে পেলাম যারা ওয়াজদের হালতে আগুনের ভিতর প্রবেশ করে এবং তাতে অগ্নি নির্বাপিত হয়ে যায়, কিন্তু জাকেরীনদের কোন ক্ষতি হয় না। সাপ, বাঘ, জানোয়ার বশীভূত করার কারামতও তাদের রয়েছে।৮৪ ইবনুল জাওযী বলেন, হযরত রেফায়ী কবীরেরও রহ. এ ধরনের কারামত ছিল। আল্লামা যাহী৮৫ এবং আল্লামা খাইরুদ্দীন যারকানীও অনেক কারামতের কথা উল্লেখ করেছেন।৮৬

রাসূলে পাকের হস্ত চুম্বনের বিখ্যাত কারামত
হযরত সাইয়্যেদ আহমদ কবীর রেফায়ী রহ. এর সর্বাপেক্ষা অধিক প্রসিদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ কারামত হচ্ছে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুবারক চুম্বন করা। এই সৌভাগ্য কেবলমাত্র হযরত রেফায়ী কবীরেরই হয়েছে। ইতিহাসে এ ধরনের আর একটি ঘটনাও অশ্র“ত। ঘটনার বিবরণে শেখ উমর ফারুকী বলেন, হযরত রেফায়ী কবীর রহ. পাঁচশত পঞ্চান্ন হিজরী সনে প্রথম হজ্বব্রত পালন করেন। আমিও হযরত রেফায়ী রহ. সঙ্গে ছিলাম। হজ্বব্রত পালন করেই মদীনা পাকের সফর। শাম, ইরাক, ইয়ামান, মরক্কো, হেজায, ও আরব বিশ্বের নব্বই হাজারের অধিক হাজী সাহেবান হজ্ব শেষে যিয়ারতের উদ্দেশ্যে মদীনা পাকে সমবেত ছিল। হযরত রেফায়ী কবীর রহ. মদীনা পাকের এলাকায় পৌঁছেই পায়ের জুতা খুলে ফেলেন এবং আদব ও এহতেরামের সাথে অগ্রসর হন। যখন রওযা পাকের সম্মুখে হাজির হলেন তখন অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে এশকের হালতে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে এভাবে সালাম পেশ করেন :
السلام عليك يا جيدى
হে নানাজী! আপনার প্রতি সালাম! সাথে সাথে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে উত্তর দিলেন :
وعليكم السلام يا ولدى
হে আমার আওলাদ! তোমার প্রতিও আমার সালাম।
হযরত রেফায়ী রহ. উত্তর শুনে ওয়াজদে ভাবাবিষ্ট হয়ে পড়েন। তাঁর বরকতে উপস্থিত সকলেও রাসূলে পাকের সালাম শুনে সৌভাগ্যশীল হন। একটু শান্ত হয়ে হযরত রেফায়ী রহ. প্রেমের আবেগে নিম্নের কবিতা সমূহ আবৃত্তি করলেন Ñ
فى حالة البعد كنت روحى ارسلها : تقبل الارض على وهى نائبى
وهذه دولة الاشباح حضرت : فامد ديمينك كئ تحظى بها شفتى
* দূরে অবস্থানকালে আমার রূহকে আপনার দরবারে পাঠিয়ে দিতাম, যেন সে আমার পক্ষে আপনার কদমবুসি করে যায়।
* এবার আমি স্বশরীরে আপনার মহান দরবারে হাজির হয়েছি; সুতরাং মেহেরবাণী করে আপনার হাত বাড়িয়ে দিন! যেন আমার ওষ্ঠাধর আপনার হাত মুবারক চুম্বনের সৌভাগ্য লাভে ধন্য হয়।
কবিতা পাঠের সাথে সাথে রওযা মুবারক থেকে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হস্ত মুবারক বের হয়ে আসে এবং সমস্ত মসজিদে নববী আলোকিত হয়ে যায়। আর হযরত রেফায়ী কবীর রহ. রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র হাত চুম্বন করে সৌভাগ্যশীল হন। উপস্থিত সকলেই রাসূলে পাকের হস্ত মুবারক যিয়ারত করে ধন্য হয়। হযরত শেখ হায়াত বিন কায়েস হারবুনী, শেখ আদী বিন মুসাফির, শেখ আকীল, কুতবে আলম মাহবুবে সুবহানী আব্দুল কাদের জিলানী, শেখ আহমাদুল কবী যাফরানী, শেখ আলী তাবারী, শেখ আহমাদ বিন মাহমূদী রিবযী , আমীর আসাদুদ্দীন বিন সাদী, শেখ হাসান বিন মুহাম্মাদ হুসাইনী ও শেখ আব্দুর রাযযক ওয়াসেতীও সেখানে হাজির ছিলেন, তারাও রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হস্ত মুবারক যিয়ারত করে ধন্য হন।
শেখ ইজ্জুদ্দীন ফারুছী বলেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলমীনের আমার প্রতি বিশেষ রহমত যে, ছয়শত বাষট্টি হিজরী সনে আমার শ্রদ্ধেয় পিতা, হযরত রেফায়ী কবীর রহ. মাযার যিয়ারতের উদ্দেশ্যে ফারুছ থেকে উম্মে আবীদার পথে রওনা হন, আমার বয়স তখন মাত্র আঠারো। শ্রদ্ধেয় পিতা মেহেরবাণী করে আমাকে সাথে নিলেন। তখন রেফায়ী তরীকার উত্তরাধিকারী হিসেবে ছিলেন শেখ শাসুদ্দীন মুহাম্মাদ রেফায়ী। আমরা খানকাহে পৌছলাম। প্রাথমিক সাক্ষাতের পর আমাদের থাকার জন্য খানকাহের নিকটে একটি ভিন্ন হুজরাখানা দেয়া হলো। আশে-পাশের অসংখ্য হুজরাখানা এবং লোকে লোকারণ্য। জুমার দিন বাদ নামায শেখ আহমাদ কবীর রেফায়ী রহ. এর মাযারের দরজা খুলে দেয়া হলো। লক্ষ লক্ষ লোক যিয়ারতের উদ্দেশ্যে অসম্ভব ভীড় করছে। এমন সময় শ্রদ্ধেয় পিতা আমার হাত ধরে একজন বুযুর্গের সাথে সাক্ষাত করালেন এবং দোয়ার জন্য দরখাস্ত করলেন। শ্রদ্ধেয় পিতা আমার হাত ধরে একজন বুযুর্গের সাথে সাক্ষাত করালেন এবং দোয়ার জন্য দরখাস্ত করলেন। শ্রদ্ধেয় পিতা ঐ বুযুর্গের হাত চুম্বন করলেন, আমাকেও চুম্বন করতে বললেন, সুতরাং আমিও চুম্বন করলাম। তিনি দোয়া করে চলে গেলেন। আব্বাজান আমাকে বললেন, এই বুযুর্গের নাম শেখ আহমাদ বিন মুাহমূদ রেফায়ী, যিনি হযরত রেফায়ী কবীর রহ.-এর সাথে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হস্তু মুবারকের যিয়ারত লাভ করেছেন। এর কিছুক্ষণ পর শেখ মুবারক বিন জাফর উনয়াবী, শেখ আব্দুর রহমান দাইবিনী, শেখ রমযান বিন আবদে রাব্বিহী ও শেখ আব্দুল মুহসিন ওয়াসেতী আনসারী তাশরীফ আনলেন। আব্বাজান সকলের হাত চুম্বন করলেন এবং দোয়ার দরখাস্ত করলেন। আমিও পিতার অনুসরণ করলাম। আরো অসংখ্য লোকজন তাদের হস্তু চুম্বন করেন এবং দোয়ার দরখাস্ত করেন। সকলের চেহারায় তাদের প্রতি ছল প্রাণভরা ভক্তি শ্রদ্ধা। সকলের চোখ থেকেই অশ্র“ ঝরছিল। সকলেই তাদেরকে দেখে দেখে ওয়াজদের হালতে রোদন করছি। আব্বা আমাকে বললেন, তারা সকলেই রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত মুবারক যিয়ারতের সৌভাগ্য লাভ করেছে, এ কারণেই লোকেরা এশকে ব্যাকুল হয়ে ক্রন্দন করছে।৮৭ এ ঘটনাকে হযরত রেফায়ী কবীরের এর কারামতের মধ্যে গণ্য করা হয়। অসংখ্য ওলামা মাশায়েখ, মুহাদ্দিসীন ও ঐতিহাসিকগণ এঘটানাকে সত্য বলে রায় দিয়েছেন। তাই এর সত্যতার প্রশ্নে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। আল্লাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী৮৮ শেখ ছফেরী৮৯ শেক ইজ্জুদ্দীন, ফারুছী৯০, শেখ মুহাম্মাদ ওতবী৯১. এবং আরো অসংখ্য উলামা মাশায়েখ বলেছেনÑ
يخشى على منكر هذه القصة السعيدة سوء الخاتمة
যে ব্যক্তি এই কারামতকে অস্বীকার করবে তার অপমৃত্যুর ভয় আছে।৯২ আল্লামা সামেরায়ী বলেনÑ
قدافتى كثير من العلماء بان من ينكر هذه القصة قد ضل وغوى
অসংখ্য ওলামাদের ফাতওয়া অনুসারে এই কারামতের অস্বীকারকারী গোমরাহ এবং পথভ্রষ্ট। নিম্নোক্ত কিতাবসূহেও উপরোক্ত কারামতকে সত্য বলে প্রমাণ করা হয়েছে- 

0 comments:

Post a Comment

 
Copyright © . A-Tasauf is the holy place of Mind . - Posts · Comments
Theme Template by BTDesigner · Powered by Blogger